Close Menu
    What's Hot

    সুন্দরবনের গুপ্তধন

    কপোতাক্ষের দুই পাড়

    অদম্য দীপশিখা

    Facebook X (Twitter) Instagram
    • ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি নির্ভর প্রেম
    • জীবনমুখী গল্প
    • ভিন্নধর্মী ভালোবাসা
    • রোমান্টিক গল্প
    • সামাজিক ও পারিবারিক গল্প
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    Golpogram
    HOT TOPICS
    • সকল স্টোরি
    Golpogram
    You are at:Home»Golpo Gram»পলাতক

    পলাতক

    0
    By admin on August 20, 2025 Golpo Gram, প্রথম দেখায় প্রেম, রোমান্টিক গল্প
    Share
    Facebook Twitter LinkedIn Pinterest Email

    আগামীকাল মিতুর বিয়ে। তবে সে রাজী নেই সে বিয়েতে। সে যে অন্যকাউকে ভালোবাসে। আসুন পরিচিত হই গল্পের নায়িকা মিতুর সাথে…..

    পড়াশোনা শেষ করে একটা প্রাইমারি স্কুলে চাকরী করে মিতু । তার মা বাবা অবশ্য টাকার অভাবে তাকে কাজে নামায়নি। এটা মিতুর একটা শখ। বাচ্চাদের ভালো লাগে তার। একজনকে ভালোও বাসে সে। মনে মনে তাকে নিয়েই অনেক স্বপ্ন বোনে মেয়েটা।

    এদিকে মা বাবার পছন্দের এক পাত্রের সাথে মিতুর বিয়ে ঠিক করা হলো। কিন্তু মিতু তো তার ভালোবাসার মানুষকে ছাড়া অন্য কাউকে মেনে নিতে পারবে না। তাই সে সিদ্ধান্ত নিলো পালিয়ে যাবে। তাই আর কিছু না ভেবে ঘর ছেড়ে বেরিয়ে সোজা চলে আসে নিলয়ের  কাছে। কিন্তু নিলয় তার হঠ্যাৎ এমন প্রস্তাবে হিমসিম খেয়ে তার কথা নাকচ করে দেয়। আর মিতুর বিয়ে নিয়েও কোনো মাথা ব্যাথা নেই তার। আরও কিছু কথা কাটাকাটির পর মিতু  সিদ্ধান্ত নেয় একাই দুরে কোথাও চলে যাবে।

    মিতু মেয়েটা এমনিতেই জেদি। সে যেটা ভাবে সেটাই তার কাছে বেস্ট মিতুর  কোনো কথায় কান দেবে না সে। ভাবলো চট্টগ্রামে এক খালামনিদের বাড়িতে থেকে যাবে কিছুদিন, সবার রাগ হাল্কা হলে বাড়ি ফিরবে।

    তারপরে বেড়িয়ে পরলো রাতের বাসে। তার পাশের সিটে ছিলো সুদর্শন এক ছেলে। মিতুকে দেখা মাত্রই সে বলে উঠলো,

    বাড়ি থেকে পালিয়েছেন?

    প্রশ্নটা শুনে একটু অবাক হলো মিতু , সে পাল্টা প্রশ্ন করলো,

    আপনি জানেন কি করে?
    আরে রাতে যখন কোনো মেয়ে একা এত দুরের যাত্রী হয়ে বাসে উঠে তখন ৭০% চান্স থাকে সে পালিয়েই এসেছে, আর আমি আন্দাজে ঢিল মেরেছি, তাতো দেখি সঠিক নিশানাতেই লাগছে। তা কারনটা কি?

     না তেমন কিছু না, আপনি কোথায় যাবেন?

    এইতো আমার ফুফুবাড়ি।

    এভাবেই মিতুর পরিচয় হলো আমাদের গল্পের নায়ক, তানভীরের  সাথে। আসুন পরিচয় করাই তানভীরের সাথে।

    তানভীরের সবেমাত্র পড়াশোনা শেষ করে বর্তমানে একটা ভালোমানের জব করে। খুবই শান্ত প্রকৃতির। মা বাবার অতি আদরের একমাত্র ছেলে সে। কয়েকদিন আগেও তার বিয়ে করতে বলা হলেও কথাটা তেমন আমলেই নেয়নি সে। তার ইচ্ছা যাকেই বিয়ে করুক, বিয়েটা করবে প্রেম করে। এখন পর্যন্ত প্রেম হয়ে উঠেনাই তার দ্বারা।

    রাত ৮:৩০এর দিকে বাস গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলো। ইতিমধ্যে প্রচন্ড ক্ষুধা পেয়েছে মিতুর । মনে মনে ভাবছে বাড়ি থেকে আসার আগে কিছু খেয়ে আসা উচিত ছিলো। কিন্তু কি আর করার, উপায় না থাকায় চুপ করে বসে আছে সে।

    রাত তখন প্রায় ১১টা, তানভীর  তার টিফিন ক্যারিয়ার থেকে নুডলস বের করে খাওয়া শুরু করলো, ওদিকে মিতু লোভাতুর দৃষ্টি এড়ালো না। হঠ্যাৎ টিফিন ক্যারিয়ারের আরও  একটা পার্টিশন খুলে মিতুর দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বললো,

    নিন, যেভাবে দেখতেছেন। পেট খারাপ হবে আমার।

    মিতু  রাগের স্বরে বললো,

     চাই না আমার, আপনিই গিলুন।

    ঠিক আছে, ওভাবে বলার জন্য দুঃখিত। বন্ধু ভেবে খেয়ে নিন। পরে কখনও আমাকে ট্রিট দিয়ে এটা শোধ করে দিয়েন।

    এরপর দুজনে কিছুটা শেয়ারিং আর একটু মজা করতে করতে বন্ধু হয়ে গেলো।

    হঠ্যাৎ বাস থেমে যেতেই ঘুম ভাঙলো সবার, তানভীর  তার হাতের ঘড়ির দিককে তাকিয়ে দেখলো প্রায় ২টা বাজে

     

    এত রাতে নির্জন জায়গায় হঠ্যাৎ বাস থামলো কেনো?

    কি হবে এরপর তনি আর অনন্যার সাথে? জানতে হলে পড়ুন “পলাতক পার্ট ২,৩।

     

    পার্ট – ২

    হঠ্যাৎই বাস থেমে যাওয়ায় সবার ঘুম ভেঙে গেলো। তানভীর ওর হাতঘড়ির দিকে তাকিয়ে বুঝলো তখন গভীর রাত, আর জায়গায়টাও বেশ নির্জন।

    এদিকে মিতু  তানভীরের কাঁধে মাথা রেখে ঘুমিয়েই আছে, তানভীর  খেয়াল করলো কিন্তু কিছুই বলতে পারলো না, ঘুমন্ত অবস্থায় মিতুকে  ভীষন মায়াবী লাগছিলো। তবুও বাকিদের চেঁচামেচিতে ঘুমটা ভেঙেই গেলো মিতুর, ঘুম ঘুম ভাব চোখে নিয়েই বলতে লাগলো…

    কি ব্যাপার! বাস এখানে কেনো থেমে আছে, আর সবাই এত চেঁচাচ্ছে কেনো?

    তানভীর  একটু মজা করার জন্য বললো

    আপনার বাবা আপনাকে নেবার জন্য রাস্তা আটকাইছেন তাই থামছে বাস’টা।

    মিতু  কিছুটা ভয় পেয়ে বললো,

    কি??? এখানে বাবা চলে এসেছে?? বাবা কি করে জানলো আমি এখানে?

    আমি ডেকেছি আপনার বাবাকে।

    কিহহহ?? আপনাকে তো আমি…..

    পুরোটা না বলে তানভীরের গলা চেপে ধরার জন্য হাত বাড়ালো, কিন্ত হঠ্যাৎ মনে পড়লো, তার বাবাকে তনি চিনবে কি করে? তাই আবার স্বাভাবিক হয়ে এলো। তারপর তানভীর বললো…

    কেমন মেয়েরে বাবা, মজাও বোঝেনা, আরেকটু হলে তো আমাকেই শেষ করে দিতো।

    এইযে মিস্টার, বড্ড বেশি বক বক করেন  এআপনি। এবার চুপ করুন আর দেখুন বাসটাখানে কেনো থেমেছে।

    এহহ, আমি কেনো জানতে যাবো? আপনার প্রয়োজন আপনি নিজেই গিয়ে জানুন গিয়ে।

    আপনার মত একটা ছেলে আমার পাশে বসে থাকতে আমি যাবো?
    ঠিক আছে যাচ্ছি আমি, আপনি বসেই থাকেন।

    থাক থাক আমিই যাচ্ছি, বসুন আপনি।

    তানভীর  গিয়ে জানতে পারলো বাসের ইঞ্জিনের কোনো সমস্যা হয়েছে, মেকানিক এসে ঠিক করে দেবে তবে তাও দেড় দুই ঘন্টা লেগে যাবে, সে মিতুকে এটা জানানোর পরে, মিতু বললো,

    তো এতটা সময় এখানে বসে বসে কি ঘোড়ার ডিম ভাঁজবেন? চলেন বাইরে যাই।

    এত রাতে বাইরে?  আপনি তো ভয় পাবেন। আর শুনুন, ঘোড়া ডিম পাড়ে না।

    ভয় পাবো না তো। আসেন বেশি দুর যাবো না।

    না না আমি যাবোই না।

    ঠিক আছে, থাকেন আপনি বসে। ভিতুর ডিম কোথাকার, আমি একাই যাচ্ছি।

    রাতে একা একটা মেয়ে খোলা পরিবেশে যাবে এটা মেনে নিতে পারলো না তানভীর । তাই অগত্যাই মিতুর পেছন পেছন দৌড়ে এলো সে।

    বাইরে এসেই এক মনোমুগ্ধকর পরিবেশে হারিয়ে গেলো মিতু। বাসটা যেখানে দাড়িয়ে আছে সেটার বিপরীতে আছে বিশাল এক হৃদ (খাল/ lake)। সে রাতে চাঁদটা জেনো তার সমস্ত আলো ছড়িয়ে হাসছিলো। সেই আলো হৃদের পানিতে প্রতিফলিত হয়ে এক মোহময় পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। বেশ কিছুক্ষন দুজনেই নিশ্চুপ। তারপর তানভীরই প্রথম শব্দটা বললো,

    বাহ, কি অপুর্ব!

    মিতু তো তখনও অবাক হয়েই তাকিয়ে আছে। তানভীরের কথায় সম্ভিত ফিরে পেয়ে বললো, “হ্যা সত্যিই খুব সু….” কথাটা বলতে বলতে তানভীরের দিক তাকিয়ে আটকে যায় মিতু। সে দেখলো তানভীর তার দিকে তাকিয়ে বলছিলো কথাগুলো। তখন একটু ধমকের সুরে বললো,

    এই এই, রাতদুপুরে এভাবে একটা মেয়ের দিকে তাকিয়ে আছেন কেনো? আগে কখনও মেয়ে দেখেননি?

    তানভীর  সম্ভিত ফিরে পেয়ে বললো,

    দেখেছি, তবে তারা এতটাও সুন্দর ছিলো না যতটা আপনি সুন্দর, আর শুনুন, এটা রাত, দুপুর নয় বুঝলেন।

    কি ছেলেরে বাবা! কথার কথাও বুঝে না। আপনি এভাবে তাকিয়ে ছিলেন কেনো তাই বলেন?

    আগে বলেন আপনি কেনো জেগে থাকা সত্তেও আমার কাঁধে মাথা এলিয়ে শুয়ে শুয়ে ঘুমের ভান ধরে ছিলেন? কাঁধটা কি আপনার দাদুর সম্পত্তি পেয়েছেন?

    আ…আ..আমি কখন আবার আপনার কাঁধে মাথা দিলাম। আমি তো ঘু..ঘু..ঘুমিয়েই ছিলাম।

    দেখুন, মিথ্যা বলে লাভ নাই, আমি সব জানি।

    ভালো করছেন, আমার বালিশের দরকার ছিলো পাই নাই, তাই….

    তানভীর  একটু রাগি রাগি ভাব নিয়ে বললো

    আমার কাঁধটা আপনার বালিশ বলে মনে হলো। হুহ অদ্ভুত মেয়ে।

    তানভীরের  রাগি মুখটা দেখে হেসে দিলো মিতু। অনেক কষ্টে হাসি থামিয়ে জিজ্ঞেস করলো,

    আপনার নামটাই তো এখনও জানা হয় নাই, বলেন কি নাম আপনার?

    আমি তানভীর , আর আপনি?

    আমি মিতু 

    ‘মি,,,,,তু !!! হা হা, এ আবার নাম??

    হেই মিস্টার, আমি মিতু। নামটা তো অন্তত ঠিক করে বলুন।

    ঠিক আছে ঠিক আছে, এবার বলেন আপনি বাড়ি ছেড়ে পালাইছেন কেনো?তারপর মিতু  তার ঘটনা শোনাতে শুরু করে। তারপরেই বাস ঠিক হওয়ায় তারা আবার বাসে গিয়ে বসে পড়লো। বাস চলতে শুরু করলো। তখন মিতু  বললো,

    এইযে মিস্টার, আমি এখন ঘুমাবো, কিন্তু বালিশ ছাড়া তো আমার ঘুম হয় না, কাঁধে মাথা রেখে ঘুমাতে পারি??

    কি আর করা যাবে? ঘুমান। কিন্তু শুনেন আগামীকাল বাস থেকে নামলেই আপনি আপনার রাস্তায়, আর আমি আমার রাস্তায়। এর মধ্যে আবার ভালো টালো বাইসা ফালাইয়েন না।

    আমার বয়েই গেছে আপনাকে ভালোবাসতে। এখন কথা না বলে ঘুমাতে দেন।

    তারপর ঘুমিয়ে পড়ে মিতু । আর মিতুর  চেহারার দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে একসময় তানভীরও  ঘুমিয়ে পড়ে।

    গল্প এখনও শেষ হয়নি। আগামীকাল বাস থেকে নেমে তানভীর কোথায় যাবে? আর মিতুই  বা কোথায় যাবে? তানভীর  আর মিতুর  মধ্যে কি আদৌ ভালোবাসা হবে?এসব সহ আরো অনেক রকম টুইস্ট বাকি আছে। এসব কিছু জানতে অপেক্ষা করুন পরবর্তি পর্বের জন্য।

                 

     

    তৃতীয় এবং শেষ পর্ব

    সকালবেলা লোকজনের কোলাহলে ঘুম ভাঙলো মিতুর। ঘুম থেকে উঠেই খেয়াল করলো তাদের বাসটি গন্তব্যস্থলে পৌছে গেছে। পাশে তাকিয়ে দেখলো তানভীর  এখনও ঘুমাচ্ছে, মিতু তানভীরকে  জাগিয়ে তুলবে এমন সময় ভাবলো একটু দুষ্টুমি করা যাক। সে আস্তে করে তানভীরের নাকটা চেপে ধরলো।

    আর তানভীর  অমনি হকচকিয়ে দড়াম করে উঠে “কে কে কে” বলে চিৎকার শুরু করলো। মিতু তখন তাকে শান্ত করার জন্য বললো..

    আরে আমি, আরে আরে কেউ না, আমি আমি।

    আপনি তাতো দেখতেই পাচ্ছি, তা আমার নাকটা চেপে ধরেছেন কেনো?

    ইয়ে মানে, মহাশয় আমরা তো পৌছে গেছি, কিন্তু আপনি তো তবুও অঘোরে ঘুমুচ্ছিলেন। তাই এটা করতে  হয়েছে।

    তাই বলে এভাবে? আস্তে করে ডাকলেও তো শুনতাম।

    এহহ, এই আপনি আমার কি হন হ্যা?? আপনাকে আস্তে করে আদর করে ডাকতে যাবো কোন দুঃখে?

    হইছে, এবার আমাকে যেতে দিন তো, সরুন।

    হ্যা হ্যা যান, নিজের রাস্তা মাপেনগে যান।

    শুনুন মিস, আমি এখানে রাস্তা মাপতে আসি নাই, তাছাড়া আমার কাছে রাস্তা মাপার অত বড় ফিঁতেও নেই।

    এ কেমন ছেলে? প্রবাদ টবাদ কিচ্ছু জানে না, বোকার হদ্দ।
    কিছু বললেন নাকি?

    না না আমি আবার কি বলবো, আচ্ছা bye, আশাকরি  আর দেখা হবে না।

    হ্যা হ্যা bye, দেখা না হলেই বাঁচি।

    এরপর দুজন দু পথে হাটা দিলো, মিতু যাচ্ছে তার খালার বাড়ি আর তানভীর যাচ্ছে তার ফুফু বাড়ি। অনেক খোজার পর মিতু  তার খালামনির বাড়িটা খুজে পেলো। কিন্তু ভেতরে গিয়ে এমন কিছু দেখলো যা সে আশাই করেনি।

    মিতু  ভেতরে গিয়ে দেখে তানভীর  বসে আছে। সে তো সাথে সাথে তেড়ে গিয়ে বললো..

    হেই মিস্টার, কি পেয়েছেন? রাতে একটু সাহায্য করেছেন বলে পিছু পিছু আমার আগেই এখানে চলে এসেছেন, আপনি তো ভারি বদ স্বভাবের।

    আমার কথাটা তো শুনুন।

    কি শুনবো হ্যা? কি শোনাবেন আপনি? আপনার মত ছেলেদের চিনিনা ভাবছেন তো?
    একা একটা মেয়েকে দেখেই লুলামী করতে মন চাইছে তাই না?

    শুনুন আমি বাকিদের মতন নই।

    দেখুন, আমি জানি সব শেয়ালেরই একই আর  আপনারা সব ছেলেরা এক।

    কি আশ্চর্য?? এখানে শেয়াল আসলো কোথাথেকে, আপনি কি সাথে করে নিয়ে আসছেন নাকি?

    এর মধ্যেই মিতুর খালামনির আগমন ঘটলো, মিতু দেখেই তো তিনি মহ উৎসাহে বুকে জড়িয়ে নিলেন, জেনো আগে থেকেই জানতেন যে মিতু আসবে আজকে, মিতু  কিছুটা অবাক হলো তবে তানভীরের  ব্যাপারে রাগ থাকায় সে দ্রুত খালাকে জিজ্ঞেস করলো,

    এই ছেলেটাকে এখানে কেনো বসিয়ে রেখেছো?

    আরে দিয়া  (মিতুর  ডাক নাম) তুই ভুলে গেছিস? ও তো তোর বড় মামার ছেলে তানভীর । মনে নেই তোর?

    মিতু স্মৃতি ঘাটিয়ে দেখলো হ্যা, ছোট বেলায় তানভীর নামের এক মামাতো ভাইয়ের সাথে ওর দারুন সখ্যতা ছিলো। মনে পড়ার পরে সে খালামনিকে বললো

    ও হ্যা, কত্ত বড় হইছে, চিনতেই তো পারি নাই।

    আচ্ছা বাদ দে, এখন যা হাত মুখ ধুয়ে ফ্রেশ হয়ে আয়। আমি নাস্তা রেডি করতেছি।

    মিতু  গেলো হাতমুখ ধুইতে, কিন্তু তখন তানভীর  গোসল করতে যাবে, এটা নিয়ে কাড়াকাড়িততে একসময় ঝগড়া লেগে গেলো। তানভীর  বললো…

    এই সরুন, আমি আগে এসেছি, তাই আগে আমি যাবো।

    এহহ, আগে আসছেন তো কি হইছে বাইরে দাড়িয়ে অপেক্ষা করেন, আমার হাত মুখ ধোয়া হয়ে গেলে আপনি গোসল করে ওখানেই ঘুমানগা, তখন কিচ্ছু বলবো না তবে এখন আগে আমিই যাবো।

    কি আশ্চর্য, বিছানা থাকতে ওখানে ঘুমাতে যাবো কেনো? আপনি কি গোসলখানাতেই ঘুমান?

    মিতু একটু বুদ্ধি করে বললো

    ঐযে দেখুন ওটা কি?

    তানভীর  যেই অন্যমনস্ক হলো অমনিই একলাফে ভিতরে ঢুকে দরজা আটকে দিলো মিতু। তারপর তানভীর  গিয়ে তার ফুফু মানে মিতুর খালামনির কাছে বিচার দেয়ায়, খালামনি একটু হেসে তাকে আরেকটা রুমের অ্যাটাচ্ড বাথরুম দেখিয়ে দিলেন।

    সারাদিন এরকম নানা ধরনের ঝগড়া করতে করতে কেটে যায় তানভীর আর মিতুর।

    রাতের দিকে তানভীর একা ছাদে দাড়িয়ে চাঁদের আলোর নিস্তব্ধতা উপভোগ করছিলো। এমন পিছন থেকে কেউ একজন বলে ওঠে, “Sorry”….

    ওমনি হকচকিয়ে “কে কে কে কে” বলে চিৎকার দেয় তানভীর ,মিতু  আবার তাকে শান্ত করে বলে..

    এই আপনি এত ভিতু কেনো হুম?

    কই আমি ভিতু? আপনিই তো শুধু ভয় দেখান আমাকে, আচ্ছা যাই হোক, sorry বলার কারনটা?
    আসলে সকালে আপনাকে না চিনেই অত কথা বলে দিছি তো, তাই বললাম।

    (দীর্ঘশ্বাস ফেলে) হুহ, মেয়েরা এমনই। জানা আছে আমার।

    ঘোড়ার ডিম জানেন আপনি।

    দেখুন আমি আগেই,বলেছি ঘোড়া ডিম পাড়ে না।

    এবার একটু হেসে দিলো মিতু, মাত্র এক রাত একদিনেই অনেকটা ভালো লেগে গেছে তানভীরকে। সে মনে মনে আন্দাজ করছিলো হয়ত তানভীরও তাকে কিছুটা ভালোবাসে। সে তানভীরের পাশে গিয়ে বসলো, তারপর বলতে শুরু করলো..

    দেখেছেন, ভালোই হয়েছে পালিয়ে এসেছি, নইলে কেমন বর জুটতো কপালে কে জানে, না পালালে তো আপনার সাথে দেখাও হতো না।

    তানভীর একটু হেসে বললো,

    আপনি না পালালেও আপনার সাথে ঠিকই দেখা হতো।

    অনন্যা একটু অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল

    মানে?

    তখন আবার কি করে দেখা হতো কি করে? ওহ বুঝতে পারছি, বিয়ের দাওয়াতে আসতেন তাই না??

    তানভীর এবার একটু জোরেই হেসে দিলো, তারপর হাসি থামিয়ে বললো

    নিজের বিয়ের দাওয়াত আবার নিজেকে কি করে দিতাম বলেন তো?

    মিতু তো এবার পুরো হতবাক, অনেক কষ্টে নিজেকে সামলে নিয়ে বললো,

    তার মানে আপনিই………

    হ্যা আমিই আপনার হবু বর, তবে দুর্ভাগ্য থাকায় আমার বউ আমায় ছেড়ে বিয়ের আগের রাতেই পালাতে চেয়েছিলো। কিন্তু আমি তো ছাড়বো না হুহ হু, আর আপনার পিতা মানে আমার শ্বশুড় মহাশয় যখন বললেন বাবা ওর সাথে একটু যাও, একটু খেয়াল রাখো জেনো কোনো ক্ষতি না হয়। তখন আমিও উড়তে উড়তে চলে আসি আপনার কাছে, আর শাশুড়িআম্মার নিকট জানতে পারি যে আপনি এখানেই আসবেন। তাই আমিও এখানেই চলে এসেছি আপনার পিছু পিছু।

    তানভীরের কথা শুনে মিতুর  সবকিছু বুঝতে পরিস্কার হয়ে গেলো, এখন সে বুঝলো কেনো সে বাড়ি ছেড়ে আসার পর কেউ তার জন্য চিন্তা করে তার মোবাইলে কল দেয় নাই। কারনটা ছিলো তারা সব খবরাখবর তানভীরের  কাছ থেকেই পাচ্ছিলো, আর আসার সাথে সাথেই খালামনির এমন আচমকা প্রস্তুতির ব্যাপারটাও পরিস্কার হয়ে গেলো। তানভীরের কথা আবার সম্ভিত ফিরে পেলো সে, তানভীর বললো,

    কি? এবার বিয়ে করবেন তো, নাকি আবার পালাবেন?

    মিতু কিছু বললো না শুধু লজ্জাভরা মুখ নিয়ে মাথা নিচু করে রইলো। পরেরদিনই তানভীরের সাথেই আবার বাসে বসে ঝগড়া করতে বাড়ি ফিরলো, তারপর ঝগড়া করতে করতেই তাদের বিয়েটা হয়েগেলো।

                                    সমাপ্ত

    People Read: 241
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email
    Previous Articleতিন মোড়ের নীরবতা
    Next Article শেষ বেঞ্চের দু’জন
    admin
    • Website

    Related Posts

    অপ্রকাশিত চিঠি

    September 15, 2025 অনলাইন প্রেম By নাজমুল হোসেন

    শেষ বেঞ্চের দু’জন

    August 27, 2025 অসমাপ্ত প্রেম By admin

    তিন মোড়ের নীরবতা

    August 13, 2025 প্রথম দেখায় প্রেম By নাজমুল হোসেন

    টাকার ছায়ায় কাব্য

    August 11, 2025 অসমাপ্ত প্রেম By নাজমুল হোসেন

    বইয়ের ভাঁজে রাখা ভালোবাসা

    August 7, 2025 প্রথম দেখায় প্রেম By নাজমুল হোসেন

    কর্মক্ষেত্রে গোপন ভালোবাসার মিষ্টি যন্ত্রণা

    July 18, 2025 অফিসের প্রেম By admin

    অপ্রত্যাশিত পুনর্মিলনে ভালোবাসার দ্বিতীয় সুযোগ।

    July 18, 2025 পুরনো প্রেম ফিরে এলো By admin

    কীভাবে একটি ছোট ভুল জীবন বদলে দিল।

    July 15, 2025 ভুল বোঝাবুঝি থেকে প্রেম By admin

    প্রবাসে থেকেও সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার গোপন সূত্র।

    July 15, 2025 দূরত্বের ভালোবাসা By admin
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Recent Posts

    • সুন্দরবনের গুপ্তধন
    • কপোতাক্ষের দুই পাড়
    • অদম্য দীপশিখা
    • অপ্রকাশিত চিঠি
    • ধুলো মাটির ফুল — চতুর্থ পর্ব

    Archives

    • September 2025
    • August 2025
    • July 2025

    Categories

    • Golpo Gram
    • অনলাইন প্রেম
    • অফিসের প্রেম
    • অসমাপ্ত প্রেম
    • অ্যাডভেঞ্চার মূলক গল্প
    • গ্রাম বাংলার প্রেম
    • জীবনমুখী গল্প
    • দূরত্বের ভালোবাসা
    • পুরনো প্রেম ফিরে এলো
    • প্রথম দেখায় প্রেম
    • বাস্তব জীবনের অনুপ্রেরণামূলক গল্প
    • ভিন্নধর্মী ভালোবাসা
    • ভুল বোঝাবুঝি থেকে প্রেম
    • রোমান্টিক গল্প
    • সংগ্রাম ও সাফল্য
    • সামাজিক বাধা পেরিয়ে প্রেম
    Top Posts

    সুন্দরবনের গুপ্তধন

    September 30, 2025

    প্রবাসে থেকেও সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার গোপন সূত্র।

    July 15, 2025

    কীভাবে একটি ছোট ভুল জীবন বদলে দিল।

    July 15, 2025
    Stay In Touch
    • Facebook
    • YouTube
    • TikTok
    • WhatsApp
    • Twitter
    • Instagram
    Latest Reviews
    Most Popular

    সুন্দরবনের গুপ্তধন

    September 30, 2025

    প্রবাসে থেকেও সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার গোপন সূত্র।

    July 15, 2025

    কীভাবে একটি ছোট ভুল জীবন বদলে দিল।

    July 15, 2025
    Our Picks

    সুন্দরবনের গুপ্তধন

    কপোতাক্ষের দুই পাড়

    অদম্য দীপশিখা

    গল্পগ্রাম - Golpogram
    © 2026 Golpo Gram. Developed by Service Key.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.